Log In

মৃত নারীকে জীবিত দেখিয়ে দলিল সম্পাদনা করায় প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা ভুক্তভোগীর

মৃত নারীকে জীবিত দেখিয়ে দলিল সম্পাদনা করায় প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা ভুক্তভোগীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর মিরপুর ইস্টার্ন হাউজিং দ্বিতীয় পর্ব এলাকায় মৃত নারীকে জীবিত দেখিয়ে দলিল সম্পাদনা এবং সন্ত্রাস বাহিনী নিয়ে জমি জবরদখলের পায়তারার অভিযোগ করেছেন মোহাম্মাদ বাইজিদ হোসাইন নামক এক ব্যবসায়ী। তার দাবি, আমাকে রাজনৈতিক ট্যাগ দিয়ে তারা দাবি করছে উল্লিখিত জমিটি নাকি তাদের দখলে ছিল। কিন্তু বাস্তবতা হলো- আমি জমিটি ইস্টার্ন হাউজিংয়ের কাছ থেকেই কিনেছি এবং হাউজিংয়ের দখলেই ছিল। বর্তমানে ক্রয়সূত্রে আমার দখলে রয়েছে। আজ মঙ্গলবার (০৪ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব দাবি করেন। এসময় মোহাম্মাদ বাইজিদ হোসাইন বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সকারের প্রধান উপদেষ্টাসহ যথাযথ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

বাইজিদ হোসাইন অভিযোগ করে বলেন, জাহাঙ্গীর হোসেন নূরজাহান বেগম নামের এক নারীর কাছ থেকে ২০১৮ সালে জমি ক্রয়ের দাবি করেছেন। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে জমির খতিয়ানে যে নূরজাহান বেগমের নাম আছে তিনি ২০০৫ সালে মৃত্যুবরণ করেছেন। এমনকি তিনি যতটুকু জমি পেতেন (দলিল নম্বর ৫৪৬১) তা ১৯৯৮ সালে ইস্টার্ন হাউজিংয়ের নিকট বিক্রি করে দিয়েছেন। জাহাঙ্গীর হোসেন যে নূরজাহান বেগমের কাছ থেকে জমি কিনেছেন বলে দাবি করেছেন, তার এনআইডির তথ্যের সঙ্গে প্রকৃত নূরজাহান বেগমের কোনো মিল নেই। সিআইডির রিপোর্টেও তা প্রমাণিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, জাহাঙ্গীর হোসেনের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত কোনো শত্রুতা নেই, কারণ আমি জমি ক্রয় করেছি ইস্টার্ন হাউজিংয়ের কাছ থেকে। তার (জাহাঙ্গীর হোসেন) চাওয়া-পাওয়া থাকলে ইস্টার্ন হাউজিংয়ে সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে। জাহাঙ্গীর হোসেনের জমির কাগজপত্র সঠিক হলে আমি নিজে তার জন্য ইস্টার্ন হাউজিং কর্তৃপক্ষকে সুপারিশ করব বলেও প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি আমার সঙ্গে শত্রুতা শুরু করেছেন।

বাইজিদ হোসাইন বলেন, আমি এবং আমার ব্যবসায়ী অংশীদাররা মিরপুর ইস্টার্ন হাইজিং দ্বিতীয় পর্ব এলাকায় (ব্লক. এন, রোড. ৩, প্লট নম্বর- ৯১) ক্রয় করে সীমানা প্রাচীর দিয়ে ভোগদখল করে আসছি। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন (পিতা-জামাল হোসেন) ও সাইফুল ইসলাম নিজাম সন্ত্রাস বাহিনী নিয়ে আমাদের জমিটি দখলের পাঁয়তারা করেন। ঘটনা জানতে পেরে আমি ৯৯৯ এ ফোন দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আশ্রয় নেই। এতে পল্লবী থানার পুলিশ ও সেনাবাহিনীর টহল টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে যেহেতু জমিতে মামলা চলমান রয়েছে, তাই আদেশ না আসা পর্যন্ত কাউকে ঝুট-ঝামেলা সৃষ্টি করতে নিষেধ করেন।

কিন্তু পরবর্তীতে মো. জাহাঙ্গীর হোসেন গত ২ মার্চ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা বানোয়াট অভিযোগ করেছেন। তিনি আরও বলেন, জাহাঙ্গীর হোসেনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আমি আরও বলতে চাই, আমি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নই। আমি ছোটখাটো ব্যবসায়ী, ব্যবসার প্রয়োজনেই সবার সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক রেখেই ব্যবসা পরিচালনা করতে হয়। কিন্তু জাহাঙ্গীর হোসেন পাশেই সাড়ে ৭ কাঠা ওপরে ১০তলা একটি বিল্ডিং করে, ৪ কাঠার টিন সেডে মার্কেট করে এবং মিরপুর সি ব্লক ৪/৫ নম্বরে বাসার ২টি ফ্ল্যাট ক্রয় করে পুরো একটি বাড়ি দখল করে আছেন।

সংবাদ সম্মেলনে এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন- আব্দুল আজিজ মোল্লা, ইমান মোল্লা, রবিউল ইসলাম প্রমুখ।

বংলার জামিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *