আওয়ামী দোসর ডা. ওমর সাদিকের পদোন্নতিতে চাপা ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক
ডা. ওমর সাদিক খান ২০০৩ সালে পিতা সচিব সেই হিসেবে প্রভাব খাটিয়ে মেডিকেল অফিসার হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগে নিয়োগ পায় (সচিব কোটা)। অত:পর এমএস (সিভিটিএস) সম্পন্ন করে ২০১৮ সালে স্বৈরাচারী আওয়ামীলীগের আমলে স্বাচিপের ও প্রাক্তন ছাত্রলীগ নেতা ডা. হৃদয় রঞ্জন এর সহযোগিতায় স্বাচিপের সদস্য ফর্ম পূরন করে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ লাভ করে।
তখন ডা. হৃদয় রঞ্জনও সহকারী অধ্যাপক হন। তাদের মতো আরো ৫ জন ছিল, তাদের এখনো প্রমোশন হয়নি। অথচ, গত ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানে স্বৈরচার হাসিনা সরকারের পতনের পর রাতারাতি খোলস পালটে কতিপয় অসাধু নেতার সুপারিশে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগে পদোন্নতি পায়। শুধু তাই নয়, এই বিভাগে অধ্যাপক হওয়ার জন্য নানা তদবির চালাচ্ছে। সে সর্বত্র বলে বেড়াচ্ছে- অধ্যাপক হওয়ার পর তিনি নাকি চেয়ারম্যান হবে! যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও ডা. ওমর সাদিক খানের জন্য পদোন্নতি পাচ্ছেন না অনেকে। একাধিক সূত্র থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
এবিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে ভিসি বরাবর কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগের বৈষম্যবিরোধী চিকিৎসক, কর্মকর্তা, কর্মচারীরা ডা. ওমর সাদিক খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে। তার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ারও দাবি জানান তারা।
জানা যায়, ডা. ওমর সাদিক খান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শুধু নানা সুবিধা গ্রহণ করেছে। বর্তমানে ফারাহ ফেরদৌস এর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক চালিয়ে যাচ্ছে। ফারাহ ফেরদৌস এমএস কোর্সে আছে। ফারাহ ফেরদৌসের সঙ্গে ডা. ওমর মাঝে মাঝে রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে যায় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ডা. ওমর সাদিক খান ফারা ফেরদৌসকে কাজ শেখাতে গিয়ে পিজি এবং বাইরের হাসপাতালে কয়েকজন রোগীকে মেরে ফেলেছে। অনেকের শারিরীক অবস্থার অবনতিও হয়েছে।
এ বিষয়ে কথা হলে ডা. ওমর সাদেক খান বলেন, একটি মহল আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য ছড়াচ্ছে। নিয়মের বাইরে আমি কখনো কিছু করিনি। ফারাহ ফেরদৌসের সঙ্গে কোনো অনৈতিক সম্পর্ক আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ফারাহ ফেরদৌস আমার ছাত্রী। কাজের ক্ষেত্র ছাড়া আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ফারাহ ফেরদৌস বলেন, এসব বানোয়াট অভিযোগ। এগুলোর কোনো ভিত্তি নেই।
সহযোগী অধ্যাপক ডা. ওমর সাদেক খান আওয়ামী লীগের চিকিৎসক সংগঠন স্বাচিপের সদস্য ফরম পূরন করে পদোন্নতি পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এবিষয়ে জানতে চাইলে কার্ডিয়াক সার্জারির চেয়ারম্যান ডা. প্রফেসর আসলাম হোসেন বলেন, এ কথা আমিও শুনেছি। এখন ব্যস্ত আছি। ফ্রি হয়ে ফোন দিব।
এসব বিষয়ে কার্ডিয়াক সার্জারির চেয়ারম্যান সাবেক প্রফেসর রেজওয়ানুল হক বুলবুল বলেন, ডা. ওমর সাদেক খান কখনোই স্বাচিবের সদস্য ছিল না। সিনিয়র হিসেবেই পদোন্নতি পেয়েছে।
ডা. ফারাহ ফেরদৌস নামের একজন চিকিৎসককে কাজ শেখাতে গিয়ে প্রাইভেট হাসপাতালে এমনকি পিজি হাসপাতালেও রোগীর অবস্থা খারাপ করে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে শুনতে পেয়েছি, এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রফেসর রেজওয়ানুল হক বুলবুল বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।
ডা. ওমর সাদেক খান এর স্ত্রী ডা. জেসমিন মোর্শেদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এসব বিষয়ে কিছু জানি না। এছাড়া আমি এসব বিষয়ে আপনার সাথে কেন কথা বলবো। হু আর ইউ। আপনি কে? আপনি এসব বিষয়ে কথা বলতে পারেন না। এর পর তিনি ফোন কেটে দেন।
ডা. ওমর সাদেক খান এর পদোন্নতি বিষয়ে জানতে চাইলে পিজি হাসপাতালের রেজিস্ট্রার প্রফেসর নজরুল ইসলাম বলেন, বর্তমানের ভিসি, প্রোভিসি এডমিন, প্রোভিসি গবেষণা উন্নয়ন, ট্রেজারার এরা সবাই আওয়ামী লীগের সময় প্রমোশন পেয়েছিল। আবার এখন তারাই….। কাজেই আমি আর কিছু বলতে চাই না। আপনার যা খুশি লেখেন।